রোববার (১৪ মার্চ) রাতে কৃষক দল ফরিদপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই পদ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা শরীফ সোহান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিএনপির সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, 'দলের নির্যাতিত ও নিবেদিত কর্মীদের বাইরে অন্য দল থেকে আসা ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।'
তিনি লিখেন, 'এতদিন ত্যাগী নেতাকর্মীরা আশা করেছিলেন যে কমিটি গঠিত হবে তাদের দিয়েই। অন্য দল থেকে আসা ব্যক্তিরা দল করতে পারে, ভোট দিতে পারে, এমনকি তাদের কেউ কেউ কারাবরণও করতে পারে—কিন্তু কমিটিতে স্থান দেওয়া উচিত নয়।'
শরীফ সোহান আরও বলেন, 'যদি রাজু মোল্লাকে দিয়ে এর সূচনা করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্যদের ক্ষেত্রেও একই দাবি উঠবে। এতে করে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা পিছিয়ে পড়বে।'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন, গত প্রায় ১৭ বছর ধরে রাজু মোল্লা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জাফর উল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। মাঝখানে কিছু সময় তিনি নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়।
তাদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টিকে অনেকে দলের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন, অর্থের বিনিময়ে এই পদ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, 'যুবলীগ থেকে এসেই পদ পাওয়াটা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। তবে এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।'
এদিকে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মির্জা ইমরান হোসেন ফেসবুকে এক পোস্টে নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'নেতা (এমপি) যেটা করেছেন, তার বাইরে কথা বলার সুযোগ নেই।'