রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি পীরগঞ্জে পৌঁছে শহীদ আবু সাঈদের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানান।
কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে তারেক রহমান কবরস্থানে প্রবেশ করেন। সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদ আবু সাঈদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। পরে তিনি আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে যান। উঠানে বসে তিনি আবু সাঈদের মা, বাবা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে প্রায় ১৭ মিনিট ধরে নানা বিষয়ে কথা বলেন।
এ সময় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ক্ষমতায় গেলে যেন তাঁর ছেলের হত্যার সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, “আমি দাবি জানাইছি—আমার ছেলের হত্যাকারীদের যেন কড়াকড়ি বিচার করা হয়। আরও যারা শহীদ হয়েছে, তাদেরও যেন বিচার হয়। যারা পঙ্গু ও অবহেলিত অবস্থায় আছে, তাদের পাশেও যেন দাঁড়ানো হয়। পাশাপাশি পীরগঞ্জে একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি কলকারখানা স্থাপনের দাবি জানাইছি, যেন এখানকার মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।”
এর জবাবে তারেক রহমান বলেন, “যদি আমরা ক্ষমতায় যেতে পারি, তাহলে এগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।”
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সমাধিস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও ছিল।
উল্লেখ্য, আবু সাঈদ ছিলেন ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদ। তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।