এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে ছবিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Focus Features–এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্রের মর্যাদা পেয়েছে।
গত ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায় ‘অবসেশন’। মুক্তির পর থেকেই ছবিটি বক্স অফিসে একের পর এক চমক দেখাতে শুরু করে। শুধু উত্তর আমেরিকাতেই ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬১ মিলিয়ন ডলার। চতুর্থ সপ্তাহান্তে এসে ছবিটি মাত্র ৭ শতাংশ আয় হারিয়েছে, যা হরর ঘরানার সিনেমার ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা।
এর আগে এই রেকর্ড ছিল The Blair Witch Project–এর দখলে। ১৯৯৯ সালের এই কাল্ট ক্ল্যাসিক চলচ্চিত্রটি চতুর্থ সপ্তাহান্তে ৯ শতাংশ আয় হারিয়েছিল। আরও অবাক করা তথ্য হলো, E.T. the Extra-Terrestrial–এর পর ‘অবসেশন’ই প্রথম চলচ্চিত্র, যার দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহের আয় প্রথম সপ্তাহের তুলনায় উল্টো বেড়েছে।
ছবিটির নির্মাতা ক্যারি বারকার হলিউডের পরিচিত নাম ছিলেন না; বরং ইউটিউব ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর পরিচিতি। এর আগে তিনি ‘দ্য চেয়ার’ নামের একটি হরর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং ‘মিল্ক অ্যান্ড সিরিয়াল’ নামের একটি ফাউন্ড-ফুটেজ ছবি নির্মাণ করেছিলেন। এমনকি ছবিটি তিনি ইউটিউবেই বিনা মূল্যে প্রকাশ করেছিলেন।
ক্যারি বারকারের প্রথম বড় পরীক্ষা ছিল ২০২৪ সালের চলচ্চিত্র ‘মিল্ক অ্যান্ড সিরিয়াল’। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ছবিটির বাজেট ছিল মাত্র ৮০০ ডলার। বন্ধুদের নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। পরে সেটি সরাসরি ইউটিউবে প্রকাশ করেন। সিনেমাটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। দর্শক বুঝতে পারেন, এই তরুণ নির্মাতার মধ্যে আলাদা কিছু আছে। সীমিত সম্পদ নিয়েও তিনি ভয় ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। এই ছবিই পরবর্তী বড় সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেয়।
২০২৫ সালে বারকার নির্মাণ করেন তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘অবসেশন’। স্বল্প বাজেটের এই হরর চলচ্চিত্র প্রথম প্রদর্শিত হয় Toronto International Film Festival–এর ‘মিডনাইট ম্যাডনেস’ বিভাগে। সেখানে দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় ছবিটি। পরে এর স্বত্ব কিনে নেয় ফোকাস ফিচারস। গত মে মাসে মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি আয় করে প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার। এরপর শুরু হয় মুখে মুখে প্রচারণা। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণ দর্শকদের মধ্যে ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
‘অবসেশন’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র বিয়ার, একটি মিউজিক স্টোরের একাকী কর্মচারী। সে তার বন্ধু নিকির প্রেমে পড়ে। কিন্তু বাস্তবে সেই ভালোবাসা পাওয়ার বদলে এক রহস্যময় অতিপ্রাকৃত খেলনার সাহায্যে নিকিকে নিজের প্রেমে পড়ানোর চেষ্টা করে।
প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ভয়ংকর দিকে মোড় নেয়। নিকি নিজের ব্যক্তিত্ব হারাতে শুরু করে, আর ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা পরিণত হয় এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে।
ভালোবাসা, আসক্তি ও নিয়ন্ত্রণের বিপজ্জনক দিককে কেন্দ্র করে নির্মিত এই মনস্তাত্ত্বিক হরর চলচ্চিত্র দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুধু পশ্চিমা দেশেই নয়, ভারতেও দারুণ ব্যবসা করছে ‘অবসেশন’। ২৯ মে ভারতে মুক্তির পর মুখে মুখে প্রচারের জোরে ছবিটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। ট্রেড ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ১৩ দিনের মধ্যেই ছবিটির ভারতীয় আয় প্রায় ৪৭ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় কোনো তারকা ছাড়াই কেবল গল্প, নির্মাণশৈলী এবং দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জোরে এই সাফল্য অর্জন করেছে ছবিটি।