রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে শহরের বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটক আব্দুর রউফ শহরের মল্লিকপাড়ার প্রয়াত সরাফত আলীর ছেলে।
পুলিশ ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রউফ দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আত্মীয় এবং প্রভাবশালী সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। রমজান মাসের শুরু থেকেই তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মোশারফ হোসেন ও পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেনকে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোববার সকালে তিনি সরাসরি পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে গিয়ে টাকা দাবি করলে অফিসের কর্মীরা তাকে আটক করে রাখেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন বলেন, 'ওই ব্যক্তি নিজেকে মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আমাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছিলেন। আজ সকালে অফিসে এসে সরাসরি টাকা দাবি করলে আমরা সহকর্মীরা মিলে তাকে আটকে রাখি।'
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অফিসের দুই কর্মীর কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তিনি সদর থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যায়।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। গত বছর গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকায় একটি ক্লিনিকে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তিনি জনতার হাতে আটক হন এবং ওই ঘটনায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন।