শিশুদের অতি প্রিয় খাবারে মিলল জ্যান্ত কেঁচো! রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আইসক্রিমের ভেতরে কেঁচো পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাম ‘পিওর’ হলেও চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাইসেন্স ছাড়াই আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের আলেমার বাজার এলাকায় ‘পিওর’ নামের একটি আইসক্রিম কারখানা দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। হকারদের মাধ্যমে এই আইসক্রিমগুলো গ্রামগঞ্জের শিশুদের হাতে পৌঁছে যেত। সোমবার বিকেলে লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নে কয়েকজন শিশু জনৈক হকারের কাছ থেকে আইসক্রিম কিনে খাওয়ার সময় দেখতে পায়, একটি আইসক্রিমের ভেতরে বড় আকৃতির একটি কেঁচো আটকে আছে। মুহূর্তেই বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি জানতে পেরে লক্ষ্মীটারি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় দেখা যায়, কারখানাটিতে অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছে। পণ্যের মোড়কে ছিল না কোনো উৎপাদন বা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ; এমনকি মেশানো হচ্ছিল নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকারক রং।
লাইসেন্সবিহীন কারখানা পরিচালনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৭ ধারায় কারখানার মালিককে ২০ হাজার টাকা এবং বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ আইসক্রিম জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “অভিযুক্তরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। শিশুদের খাদ্যের মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। অভিভাবকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, শিশুদের হাতে যেকোনো খাবার তুলে দেওয়ার আগে সেটির মান ও মেয়াদ ভালো করে যাচাই করে নিন।”
অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা এ ধরনের কারখানার বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।