মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের পূর্ব রাখীর কান্দী এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকদের একটি দল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে কথা কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সদ্য বহিষ্কৃত সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহবুব হাসান সোহাগ (৩৮), জয় বেপারী (৩২), মো. ইকবাল (৪০), জুয়েল শেখ (৪৩) ও আব্দুল জব্বর বেপারী (৫৩)। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে পূর্ব রাখীর কান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য সচিব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন আহমেদের ফুটবল প্রতীকের সমর্থকরা। এ সময় বিএনপি প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরু মোল্লা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির জমাদ্দারের নেতৃত্বে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
সংঘর্ষের সময় ভোটকেন্দ্রের ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাসুদুর রহমান জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনের মাথা ও ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একজনের ডান হাত ভাঙা অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।