কারামুক্তির পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক ছাত্রীকে কারাগারে ‘গুম’ করে রাখার অভিযোগ তুললেও অনুসন্ধানে সেই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত তানজিলা তাবাসসুম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেস ব্রিফিংয়ে জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী অভিযোগ করেন, তাঁর সঙ্গে কারাগারে থাকা তানজিলা তাবাসসুম নামের এক নারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং তাঁকে গোপনে কারাগারে রাখা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরীফ মোশাররফ হোসেন ও বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রওশন আলী জানান, অর্থনীতি বিভাগে তানজিলা তাবাসসুম নামে কোনো শিক্ষার্থী নেই। একাধিক ব্যাচের শিক্ষার্থী তালিকা যাচাই করেও এ নামে কাউকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তানজিলা তাবাসসুমকে গত ২৭ ডিসেম্বর মধ্যরাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের একটি এলাকা থেকে আটক করে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। পরে বাসন থানার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে সে সময় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সজিব জানান, তানজিলার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন এলাকায় নিজেকে আইনগত সহায়তাকারী পরিচয় দিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সদস্যরাও তাঁর প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, তানজিলা এইচএসসি পাস করেননি এবং তিনি জবি শিক্ষার্থী নন। তাঁর গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার পয়সা পশ্চিম পাড়া গ্রামে। তিনি মৃত রুবেল মিয়ার মেয়ে। আটক হওয়ার পর তিনি নিজেই পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও পুলিশ দাবি করেছে।
এদিকে, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া একটি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস