ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে নিয়ে নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন কসবা ও আখাউড়া উপজেলার মানুষ। বিএনপির বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষ। বিগত ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরও মুশফিকুর রহমানকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় ছিল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুশফিকুর রহমান ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৭৯৬ ভোট। এই আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক প্রভাবশালী আমলা মুশফিকুর রহমান তাঁর চাকরি জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। সাবেক এই সচিব একজন বিচক্ষণ অর্থনীতিবিদ হিসেবেও সুপরিচিত।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত মুশফিকুর রহমান বর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দল যখনই কোনো সংকটে পড়েছে, তখনই তিনি দলের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে ১/১১-এর সময়ে জিয়া পরিবার ও বিএনপি যখন চরম দুঃসময়ে ছিল, তখন দল ও নেতাকর্মীদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ান তিনি।
জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত মুশফিকুর রহমানকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও দলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের মতে, জীবনের পড়ন্ত সময়ে এসে জিয়া পরিবার ও দলের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন বলেন, “নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভা ও উঠান বৈঠকে আমরা ভোটারদের আশ্বস্ত করেছি, মুশফিকুর রহমান জয়লাভ করলে তিনি এবার মন্ত্রী হবেন। কসবা-আখাউড়ার মানুষ মনে করেন, মুশফিকুর রহমানই এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারবেন। সীমান্ত এলাকার প্রধান সমস্যা মাদক ও চোরাচালান বন্ধ, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সকল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনি ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতো একজন পরিচ্ছন্ন ও সৎ মানুষ যদি মন্ত্রিত্ব পান, তাহলে তা সমগ্র দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে।”
তিনি আরও বলেন, “২০০১ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর দল মুশফিকুর রহমানকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় এ নিয়ে এলাকাবাসী ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে। তাই আমরা চাই, দলের প্রতি তাঁর অবদান মূল্যায়ন করে এবং নির্বাচনী এলাকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেবেন।”