জামিনে মুক্তি পেয়ে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলারের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বুধবার সন্ধ্যার পর বাগেরহাটে পৌঁছান জুয়েল হাসান। স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অভিযোগ করেন, বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাগেরহাটে থাকতে হলে ওই টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে জুয়েল আরও বলেন, কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময় তাঁর পরিবারের খোঁজখবর রেখেছেন এবং জামিন ও অন্যান্য খরচে সহায়তা করেছেন। নিজেকে নির্দোষ ও রাজনৈতিক বন্দী দাবি করে তিনি বলেন, তাঁকে তিন মাস সেলে রাখা হয়েছিল এবং এ সময় তাঁর স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
তবে বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, আচরণগত সমস্যার কারণেই জুয়েল হাসানকে প্রশাসনিকভাবে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, কোনো জেলার একক সিদ্ধান্তে কাউকে অন্য কারাগারে পাঠানো সম্ভব নয় এবং ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জুয়েল হাসান বন্দী অবস্থায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক আচরণ করতেন। নিরাপত্তার কারণে তাঁকে সেলে রাখা হয়েছিল, যা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়। বাগেরহাট কারাগারের নথিতে উল্লেখ আছে, গত বছরের ১২ এপ্রিল তিনি এক সেল ইনচার্জকে হুমকি ও গালাগাল করেন এবং ৬ জুলাই আরেক বন্দীকে মারধর করেন।
জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন আরও বলেন, কারাগারে আসার পরদিনই জুয়েলের স্ত্রী, শ্বশুরসহ আত্মীয়রা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নিয়মিত সাক্ষাৎ চালু ছিল। তাঁর মতে, পারিবারিক মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে জুয়েল এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এমন অভিযোগ সত্য হলে যশোরে স্থানান্তরের সময়ই তা তোলা যেত।
জামিনে মুক্তির পর জুয়েল হাসান কিছু সময় বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করেন। পরে তিনি মোটরসাইকেল ও একটি সাদা গাড়িতে করে অন্যত্র চলে যান।
উল্লেখ্য, জুয়েল হাসানের বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে। গত ২৩ জানুয়ারি সেখান থেকে তাঁর স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা এবং নয় মাস বয়সী সন্তান সেজাদ হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে দাবি করা হয়, সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন কানিজ সুবর্ণা। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় কারাগারের ফটকে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন জুয়েল হাসান।
এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও কেন তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তোলে।