অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের ডিমখিল মৌজার বি.আর.এস ২৬ নং দাগভুক্ত প্রায় ১৩ শতাংশ জমির বৈধ মালিক জাহাঙ্গীর চোকদারের পিতা আলী আহাম্মদ চোকদার। ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত এ জমি তারা প্রায় ৫০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। তাদের কাছে ডিসিআরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও রয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একই এলাকার আঃ কাদের দেওয়ান (৭০) ও তার ছেলে সিরাজ দেওয়ান (৪২), শুকুর দেওয়ান (৩০) এবং বিল্লাল দেওয়ান (৩৫) সহ সাত ভাই দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকির অভিযোগও তোলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর চোকদার বলেন, 'আমাদের বৈধ জমি জোর করে দখলের চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকলেও এখন তারা প্রকাশ্যে মাটি কেটে ভরাট করছে এবং ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।'
তার স্ত্রী পিয়ারা বেগম বলেন, 'আমার স্বামী একা, আর ওরা সাত ভাই। তারা প্রভাব খাটিয়ে নিয়মিত আমাদের ভয়ভীতি দেখায়। কাগজে-কলমে যদি জমি আমাদের হয়, তাহলে আমরা তা রাখব। জোরপূর্বক দখল আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমরা গরিব মানুষ, তাদের সঙ্গে পেরে উঠি না। তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।'
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা শ্রমিক নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে মাটি ফেলে আংশিক ভরাট করে ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নেয়। বাধা দিলে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে সরে যায়। এরপর থেকে পুনরায় দলবল নিয়ে জমি দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতিবেশী কবির সরদার জানান, জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। কয়েকবার সালিশ হলেও সমস্যা মেটেনি, বরং পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
স্থানীয় মুরুব্বি কুডু মিয়া বেপারী বলেন, 'একই মৌজার ১২৪ ও ১২৫ নং দাগে সিরাজ দেওয়ানের জমি থাকলেও তাদের যাতায়াতের রাস্তা নেই। মানবিক কারণে জাহাঙ্গীর চার হাত রাস্তা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে। তারপরও বিরোধ মিটছে না, যা দুঃখজনক।'
তবে অভিযুক্ত সিরাজ দেওয়ান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'এটা আমার নিজস্ব জমি। আমি কারও জমি দখল করিনি। স্থানীয় সালিশে কিছু জমি স্ট্যাম্পে লিখে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, যা এখন তারা অস্বীকার করছে।'
স্থানীয়দের মতে, জমি সংক্রান্ত এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানার কর্মকর্তা মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।