গাজীপুর-২ (জেলা শহর ও টঙ্গী) আসনে ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী আলী নাছের খানের বিরুদ্ধে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় এনসিপির গাজীপুর জেলা সদস্যসচিব আল আমিন আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. তরিকুল ইসলাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগটি জমা দেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তারা অভিযোগটি পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, আলী নাছের খানের নিরাপত্তার জন্য ইতোমধ্যে গানম্যান ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের শাপলা কলি মার্কার সমর্থনে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পোড়াবাড়ী এলাকায় মূল সড়কে পৌঁছালে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণার মাইক বহনকারী একটি অটোরিকশা শোভাযাত্রার পথরোধ করে এবং উচ্চস্বরে মাইক বাজাতে থাকে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শোভাযাত্রার নেতাকর্মীরা অটোরিকশাটি সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানালেও তারা তা উপেক্ষা করে উসকানিমূলক আচরণ চালিয়ে যায়। একপর্যায়ে ধানের শীষের স্টিকারযুক্ত একটি প্রাইভেট কার ব্যবহার করে দুই ব্যক্তি গাড়িচাপা দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাজীপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম। তিনি বলেন, জনপ্রিয়তা না থাকায় ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যেই এনসিপির প্রার্থী এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, তিনি একটি কর্মসূচি শেষে পোড়াবাড়ী বাজারের পথ ধরে ফিরছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন রাস্তার পাশে নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে তারা জানান, এনসিপির প্রার্থী আলী নাছের খানের সঙ্গে তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে কোনো হুমকি বা গাড়িচাপার ঘটনা ঘটেনি।