ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়-১ আসনে টানা চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন।
প্রচারণাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনে পূর্বনির্ধারিত ‘হেভিওয়েট’ রাজনীতির ধারণা আর টিকবে না। বড় বড় রাজনৈতিক দলের যেসব তথাকথিত হেভিওয়েট নেতা এতদিন ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন, এবার তাদের ভূমিধস পতন হবে—ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “বিপ্লব মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। আমরা জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের স্পষ্ট লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। মানুষ এখন শুধু ১২ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায়। প্রত্যেকটি মানুষ জুলুমের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, হুমকি-ধামকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধে মানুষ এবার রায় দেবে।”
অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এক বছর তিন মাস ধরে যারা জুলুম করেছে, তারাই এখন ফেরেশতা সাজার চেষ্টা করছে। কিন্তু মানুষ এ ধরনের গিরগিটি চরিত্র ভালোভাবে চিনে রাখছে। ভোটের সময় মানুষ কারও কথায় কান দিলেও ব্যালট দেওয়ার সময় ঠিক জায়গায় ভোট দেবে।”
পঞ্চগড়-১ আসনের পাশাপাশি সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুধু এই আসনে নয়, পুরো বাংলাদেশেই ইনসাফের পক্ষে, ভালো ও সাধারণ মানুষের পক্ষে ১০ দলীয় জোটের যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ—সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তিই বিজয়ী হবে এবং আগামীতে সরকার গঠন করবে, ইনশাআল্লাহ।”
এ সময় হুমকির অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, “এখনও আমার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির কিছু স্থানীয় নেতাকর্মী সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছে। আজ সকালে একজন জামায়াতকর্মী এসে অভিযোগ করেছেন, তাকে বলা হয়েছে—ধানের শীষে ভোট না দিলে নির্বাচনের পরে দেখে নেওয়া হবে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হুমকি-ধামকি আর ভয় দেখিয়ে যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, তাদের পতন শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়ংকর হবে। বাংলাদেশের মানুষ এখন আর আগের মতো নেই। সবাইকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে দিন।” এ সময় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।