সামনের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে—এমন আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “রংপুর শহীদ আবু সাঈদের পবিত্র রক্তে রঞ্জিত ভূমি। এখানে আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে অংশগ্রহণ ছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ—এ কথা উল্লেখ করে তিনি জনগণকে তাদের অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি আরও বলেন, “রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।”
কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের পরিকল্পনা জানালাম, এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী?” জবাবে জনতা ‘ধানের শীষ’ বলে স্লোগান দেন।
এ ছাড়া তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন ফজরের ওয়াক্তে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের জামাতে অংশ নিতে হবে, যাতে করে ১৬ বছর আগে যেমন নিশিরাতে নির্বাচন হয়েছিল, এবার আর তা করতে না পারে কেউ। তিনি বলেন, “১৬ বছর যেমন আমু-ডামু নির্বাচন হয়েছিল, এবার তা হতে দেওয়া হবে না। এবার জনগণের পালা—জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কী করবে।”