যশোরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি পথসভায় প্রকাশ্যে ধানের শীষে ভোট চাওয়ায় আলোচনায় এসেছেন আনসার আলী নামের এক ব্যক্তি। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকায় যশোর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনি পথসভায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন আনসার আলী। এ সময় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
যশোরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি পথসভায় প্রকাশ্যে ধানের শীষে ভোট চাওয়ায় আলোচনায় এসেছেন আনসার আলী নামের এক ব্যক্তি। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকায় যশোর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনি পথসভায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন আনসার আলী। এ সময় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে আনসার আলীকে বলতে শোনা যায়, জামায়াতের রাজনীতির কারণে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা হয়েছে এবং তিনি ছয় মাস কারাভোগ করেছেন। কারাগারেই বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে তার পরিচয়।
কারাবন্দি অবস্থায় জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী তার খোঁজ না নিলেও অমিত নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'জামায়াত ধর্মের কথা ব্যবহার করে ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।' উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রতিমা পাহারার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, 'এটি তাদের আদর্শিক অবস্থান নয়, বরং শুধুমাত্র ভোটের স্বার্থে করা হয়েছে।'
পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, 'বেহেশত ও দোযখের মালিক একমাত্র আল্লাহ। এর মালিকানা কোনো মানুষের হাতে নেই। যারা বেহেশত-দোযখের টিকিট দেওয়ার কথা বলেন, তারা ধর্ম ব্যবসায়ী। মানুষ এখন আর এসব মুনাফেকি ও ভণ্ডামিতে বিভ্রান্ত হবে না।'
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বিতর্ক শুরু হয়।
আনসার আলী কখনো জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না দাবি করে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আশরাফুল ইসলাম বলেন, 'আনসার আলী একজন সুবিধাবাদী লোক। তাকে কখনো আমাদের কোনো কর্মসূচি বা সভায় দেখা যায়নি। তিনি আওয়ামী লীগের সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।'
অন্যদিকে, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল সালাম বিশ্বাস বলেন, 'আনসার আলী পাঁচ ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। বিএনপির প্রোগ্রামে আসা তার ব্যক্তিগত ও আদর্শিক সিদ্ধান্ত। অমিতের রাজনৈতিক শিষ্টাচার দেখে তিনি তার সঙ্গে একমত হয়েছেন।'
জামায়াতের অস্বীকার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যই বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে এবং এলাকায় আনসার আলী ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।