জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়ার জন্য পুলিশকে তাগিদ দেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে চারটার দিকে শিশু ধর্ষণের খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে এলাকায় গুজব রটে যায় যে ধর্ষণের শিকার শিশুটি মারা গেছে। এই খবরে ক্ষুব্ধ শত শত এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে আসেন এবং অভিযুক্ত মনিরকে আটকে রাখা ভবনটি ঘেরাও করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দেন স্থানীয়রা। তারা আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের হাতে আইন তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে শুরু হয় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধ করে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বেশ কিছু যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুর করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে পিছু হঠলেও পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত আটটার দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। জবাবে বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে রাত সোয়া ১০টার দিকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশলে অভিযুক্ত মনিরকে ভবন থেকে বের করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে মধ্যরাতের পরও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে।
বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ধর্ষণের ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
বৃহস্পতিবারের সহিংসতায় ৩০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করে ওসি বলেন, 'আহত পুলিশ সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি গাড়ি থেকে ব্যাটারি চুরির অভিযোগে ইতোমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।'
চমেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছেন, শিশুটি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ বলে মনে হলেও, বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য শিশুটির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই মূল বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, 'বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণেই মানুষের মনে ক্ষোভের তৈরি হয়। আমি চাই আমার মেয়ের মামলার বিচার যেন দ্রুত শেষ করে আসামিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।'