ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ–মাদারগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত এক নেতা ও তাঁর স্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফায়েজুল ইসলাম (লাঞ্জু) ও তাঁর স্ত্রী সোনিয়া ইসলাম সমর্থকদের নিয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। ইউএনও সুমন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাঁরা দুজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।
ফায়েজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ, সভা ও উঠান বৈঠক করে আসছিলেন। তবে এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহসম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর ফায়েজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে দলের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জের তৃণমূলের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি বলে আমি মনে করি। সে কারণেই আমি ও আমার স্ত্রী—দুই নামেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যিনি ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন, তিনি আগামী নির্বাচনে প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানেও থাকতে পারবেন না। ইতিমধ্যে দুই উপজেলার অনেক নেতা-কর্মী তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এবং জনগণের ভোটে আমি বিজয়ী হব।’
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর কাদের খান বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে দলের পক্ষ থেকে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কারণ, দলীয় নেতা-কর্মীরা কখনোই প্রতীকের বাইরে যাবেন না।’