কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে। তিনি তার পোস্টে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির একটি গ্রাফও যুক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, 'সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।'
আরাঘচি জানান, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা এবং ঋণ ও গৃহঋণের সুদের হার বাড়তে থাকলে অর্থনৈতিক চাপ আরও গভীর হবে। ইতোমধ্যে গাড়ি ঋণে খেলাপির হার গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও একই ইস্যুতে মন্তব্য করে বলেন, 'উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে একটি অভিনয়ধর্মী যুদ্ধ চালানো হচ্ছে, যা বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।'
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পাঁচ শতাংশ সুদে বিক্রি করেছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম। একইসঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করতে পারে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় বড় অচলাবস্থার একটি প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরান এই জলপথে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি দাবি করলেও উপসাগরীয় দেশগুলো এটিকে আন্তর্জাতিক জলপথ বলে দাবি করছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী জাহাজগুলো সুবিধা পাবে এবং নির্দিষ্ট ফি আরোপ করা হবে।
সূত্র: আল জাজিরা