প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এ প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য কিছু আইনজীবী ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও জড়িত রয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় “প্রমাণ” হিসেবে ডাক্তারি সনদ, ছবি এবং জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করে দেওয়ার মতো কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব সেবার বিনিময়ে কয়েক হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে পাকিস্তানিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং বাংলাদেশিরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩ সালে এ ধরনের মোট ৩ হাজার ৪৩০টি আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে নতুন আবেদন ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০টি। এর মধ্যে ৪২ শতাংশই পাকিস্তানি নাগরিকদের।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসা কিছু অভিবাসীর মধ্যেও এ ধরনের আশ্রয় আবেদন বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের আবেদন প্রস্তুত ও পরিচালনায় সহায়তা করছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, ভুয়া তথ্য দিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এতে দোষী প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড ও পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে বহিষ্কারের শাস্তি হতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণামূলক আবেদন প্রকৃত ঝুঁকিতে থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ক্ষতিকর, কারণ এতে তাদের দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এদিকে, বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্যরা তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।