জুলফাগারির এই মন্তব্য ট্রাম্পের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর বিখ্যাত উক্তি ব্যবহার করে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বন্ধ রাখার হুমকি ও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ট্রাম্প যদি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানেন, তবে তারা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্র দেশগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্থাপনা এবং পানি শোধনগার বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালাতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখছে ইরান। যদিও নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবুও শত্রুভাবাপন্ন দেশের সব ধরনের জাহাজ চলাচল রোধের নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করছে তেহরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।
ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েও তেহরান সেই চাপকে অগ্রাহ্য করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের অনড় অবস্থান এবং ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা যুদ্ধের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমানে ইরানের সামনে চারটি কৌশলগত পথ খোলা আছে, তবে কোনোটিই নিশ্চিত বিজয় প্রদানের নিশ্চয়তা দেয় না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প যদি আল্টিমেটামের পর ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালান, তবে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ব্যবহার করে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের বাণিজ্যিক রুটগুলোকে পুরোপুরি অচল করার ক্ষমতা রাখে।
জুলফাগারির ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য মূলত ওয়াশিংটনকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি একমাত্র আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে নেই।
সূত্র: আল জাজিরা