সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, পাম্পগুলোতে যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইনের মধ্যেও সরকার রিজার্ভ বেশি থাকার দাবি করে প্রকৃত সত্য আড়াল করতে চায়। সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে সেই নোটিশও আলোকচিত্রণ হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, 'বর্তমান সংসদে যারা প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে দমন বা অত্যাচারের শিকার হয়েছেন—কেউ জেল খেটেছেন, কেউ আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন, আবার কেউ ফাঁসির মঞ্চ বা নির্বাসন থেকে ফিরে এসেছেন। এমন ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত সংসদ যদি জনগণের দুঃখ বোঝে না, তবে আর কে বোঝবে?”
ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, '৫৪ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদ বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রেখেছিল, ২০২৪ সালের বিপ্লবীরা তাকে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এখন যারা সেই নর্দমা থেকে ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও জামায়াতে ইসলামী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।'
আলোচনা সভায় তিনি ২৪-এর আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, 'বর্তমান প্রজন্ম কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেনি, বরং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মূল পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ করেছে। বিগত নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ "হ্যাঁ" রায় দিয়ে জামায়াতকে সমর্থন করলেও সেই রায়কে হাইজ্যাক ও ডাকাতি করা হয়েছে।'
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'যেদিন গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। সংসদ মানুক আর না মানুক, জামায়াতে ইসলামী জনগণের রায় বাস্তবায়নে রাজপথে ফিরে যাবে এবং যেকোনো মূল্যে ইনসাফ কায়েম করবে।'
দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, 'যারা নিজেদের দলের ভেতরে গণতন্ত্র ও ইনসাফের চর্চা করতে পারে না, তারা ১৮ কোটি মানুষকে নিরাপত্তা বা গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না। সংসদে উপস্থিত তাদের ৭৭ জন সদস্য জনগণের অধিকার রক্ষায় সতর্ক প্রহরীর মতো কাজ করবে এবং জাতির ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবে না।'
শেষে ডা. শফিকুর রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, 'যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদের ফিরে আসা রোধ করা হবে এবং ইনশাআল্লাহ এই অশুভ যাত্রা থামানো হবে।'