অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘাতক সোহেল রানার মূল বাড়ি নাটোরের মহেশচন্দ্রপুর এলাকায়। সেখানে সে রিকশা মেরামতের কাজ করত। প্রায় ১০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করা সোহেলের সেই সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। তবে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর বছর তিনেক আগে পাশের গ্রামে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে।
এলাকায় থাকতেই মাদক ও অনলাইন জুয়ায় মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে সোহেল। জুয়ার কারণে বিপুল অঙ্কের ঋণে জর্জরিত হয়ে একপর্যায়ে সে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।
নাটোর থেকে পালিয়ে ঢাকায় এসে মিরপুরের পল্লবীতে এক আত্মীয় ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আশ্রয় নেয় সোহেল ও তার স্ত্রী। প্রথমে সাদ্দাম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিহারি ক্যাম্পের একটি বাসায় সাবলেট নিয়েছিল তারা। তবে সেখানে নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করার কারণে বাড়ির মালিক তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন।
ওই বাড়ির মালিক জানান, তার বাসায় দুই মাস থাকার সময় সোহেলের ইয়াবাসক্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে তারা তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
বিহারি ক্যাম্প ছাড়ার পর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকতে শুরু করে সোহেল। ওই বাসার কেয়ারটেকার মনির জানান, পরিচিত দুজনের সুপারিশে তিনি প্রথমে সোহেলকে নিজের গ্যারেজে মিস্ত্রি হিসেবে কাজ দিয়েছিলেন। তবে ১৫ দিনের মাথায় কাজে নিয়মিত ফাঁকি দেওয়ায় তাকে গ্যারেজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কেয়ারটেকারের অনুরোধেই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মাসুদ তাকে বাসায় সাবলেট দেন।