বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, এবার দেশ গড়ার সময়। তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে দেশের প্রতিটি সেক্টর ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ধ্বংসের কারণে দেশ অনেক পিছিয়ে পড়েছে। এসব খাত পুনর্গঠন করতে হলে অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকে দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণ যদি তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে, তাহলেই এলাকার সমস্যাগুলো জনপ্রতিনিধির কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে। বিগত ১৫ বছরে যেসব ডামি ও নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে, সেসব নির্বাচনে নির্বাচিত তথাকথিত এমপিদের কাছে সাধারণ মানুষ তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেনি। এলাকার উন্নয়ন ও দেশের অগ্রগতির জন্য গণতান্ত্রিক নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ—সব স্তরেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দরকার। জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে তাদের জনগণের কাছে গিয়ে সরাসরি সমস্যা জানতে হবে এবং তা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ দেশের সামগ্রিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হলে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন। মানুষের নির্বাচিত সরকারই মানুষের সমস্যার প্রকৃত সমাধান করতে সক্ষম।
গত ১৫-১৬ বছরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের মানুষ একটি ইতিবাচক পরিবর্তন চায়—যেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং জনগণের সমস্যার কার্যকর সমাধান হবে।
তারেক রহমান বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ-যুবক কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবছর বহু মানুষ বিদেশে কাজ করতে গেলেও তারা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যেতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হতে পারে।
এ সময় তিনি উপস্থিত জনতার সঙ্গে একটি শপথ বাক্য পাঠ করেন—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
সমাবেশে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম, নাজিম উদ্দিন আলম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্যসচিব মোস্তফা জামানসহ ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।