দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
ফজরের নামাজ শেষ করেই ভোটকেন্দ্রে আসতে শুরু করেন ভোটাররা। অনেক কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ করেছেন পোলিং এজেন্টরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে বৈধ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সবশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচন বিতর্কের জন্ম দেয়। তাই সবার চোখ এবারের নির্বাচনে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। এবারই প্রথম পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত হয়েছে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন।
নির্বাচনে সব মিলিয়ে ২ হাজারের মতো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে, বাকিরা ৫১টি দলের প্রার্থী।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন প্রার্থী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ জন প্রার্থী।
রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি এবারের ভোটে প্রতীকও থাকছে সবচেয়ে বেশি। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিসহ ১১৯টি নির্বাচনি প্রতীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তায় জোর ইসির
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে সেনাসহ বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য। মোতায়েন করা হয়েছে। এরমধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাবাহিনী, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ জন, এবং বিএনসিসির ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য।
এদিকে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশিতে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সদস্যের দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা।
সারা দেশের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা অস্থিরতার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে চালু থাকবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’। তবে এটি শুধু নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন।
আর সদ্য চালু হওয়া হটলাইন নম্বর ৩৩৩-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে, সতর্কবার্তা দিতে বা তথ্য দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া মাঠ প্রশাসন থেকে পাওয়া অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কন্ট্রোল রুম খুলেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ও ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীরা কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করবেন। কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন নম্বর (+৮৮০২২২৬৬৪১১১৮) চালু করা হয়েছে।
ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ কেন্দ্রেই
এবার গণভোটের কারণে ভোটগ্রহণ এক ঘণ্টা বাড়ানোয় সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়। এরপরই শুরু হবে ভোট গণনা। এ সময় প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা থাকতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
গণনা শেষে বিবরণী কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড বা দেয়ালে টানিয়ে দেওয়া হবে। পরে প্রিসাইডিং অফিসার কেন্দ্রের ভোট গণনার বিবরণী নির্ধারিত ফরমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করবেন। ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনের কাছেও একটি কপি পাঠানো হবে।
অবশ্য মঙ্গলবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ফল প্রকাশ কোনো অবস্থাতেই ‘অযথা দীর্ঘায়িত’ করা হবে না। ভোটগ্রহণ শেষে ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে। সূত্র: এশিয়ান পোস্ট