ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে হরমুজ প্রণালিতে আবারও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি পারাপারে সহায়তা করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্বল্প সময়ের জন্য অভিযানটি চালু হলেও মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই তা স্থগিত করা হয়। তবে পেন্টাগনের পরিকল্পনাকারীরা এখন নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ করছেন এবং চলতি সপ্তাহেই এটি পুনরায় চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত কয়েক মাসে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ওই সময় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন এই অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা নেয়।
তবে শুরুতেই এই উদ্যোগে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর ঘোষণা দিলে সৌদি নেতৃত্ব অসন্তোষ প্রকাশ করে।
এরপর রিয়াদ জানায়, রাজধানীর কাছে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বিমান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না এবং সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। একই ধরনের অবস্থান নেয় কুয়েতও।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ Mohammed bin Salman-এর মধ্যে ফোনালাপ হলেও তাৎক্ষণিক সমাধান আসেনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পর সৌদি আরব ও কুয়েত আবারও তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সৌদি আরবের আপত্তির কারণেই আগেই অভিযানটি সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে এখন পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় নতুন করে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ চালুর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত না হলেও পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।