প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গত বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। একজন সাবেক সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে ‘লজ্জিত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আজ শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই অনুভূতির কথা জানান শফিকুল আলম।
ইংরেজিতে লেখা ওই পোস্টের বাংলা অর্থে তিনি বলেন, গত রাতে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর সাংবাদিক বন্ধুদের কাছ থেকে সাহায্যের আকুল ফোনকল পেয়ে তাঁদের কণ্ঠে কান্না টের পেয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বন্ধুদের কাছে নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছে, কারণ তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পারেননি।

পোস্টে তিনি জানান, যাঁদের অবহিত করা প্রয়োজন ছিল, তাঁদের সবাইকে বারবার ফোন করে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সাহায্যই সময়মতো পৌঁছায়নি। ভোর পাঁচটায় ঘুমাতে যাওয়ার সময় তিনি শুধু এটুকুই জানতে পেরেছেন যে ডেইলি স্টারের ভবনের ভেতরে আটকে পড়া সব সাংবাদিক উদ্ধার হয়েছেন এবং তাঁরা নিরাপদ। তবে এর আগেই দুই পত্রিকা অফিস দেশের সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে অন্যতম বর্বরোচিত হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত বহন করছে।
শফিকুল আলম আরও লেখেন, কীভাবে সান্ত্বনা দেবেন, তা তিনি জানেন না। একজন সাবেক সাংবাদিক হিসেবে শুধু এটুকুই বলতে পারেন যে তিনি লজ্জিত। তাঁর মনে হচ্ছে, যদি লজ্জায় নিজেকে পুঁতে দেওয়ার মতো বড় কোনো কবর খুঁড়তে পারতেন।
এর আগে গতকাল রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্র–জনতার একটি অংশ প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে কেউ হতাহত হননি। সরেজমিনে দেখা গেছে, আগুনে দুটি ভবনই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।