জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ চলছে। এতে মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল বীর নায়কের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাবলিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।'
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭টি এবং প্রাথমিকের ৩৬টি বই নিয়ে কাজ করছেন প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
চেয়ারম্যান জানান, গত ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে এ বিষয়ে একটি নিবিড় আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ভার্সনসহ মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তকের পরিমার্জন কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। লক্ষ্য হচ্ছে, ২০২৭ সালের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নির্ভুল ও আধুনিক বই পৌঁছে দেওয়া।
শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক একটি বই প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা শিশুদের ডিজিটাল আসক্তি কমিয়ে শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করবে।
এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং কারিগরি শিক্ষাভিত্তিক একটি উদ্বুদ্ধমূলক বই যুক্ত করা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইতেও আনা হচ্ছে বড় পরিবর্তন। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
মাহবুবুল হক পাটওয়ারী আরও বলেন, 'বর্তমান সরকার শিক্ষার্থী-বান্ধব ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে নতুন কারিকুলাম প্রণয়নে কাজ করছে। এতে বইয়ের সংখ্যা কমিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হবে। ২০২৭ সালে পরিমার্জিত বই চালু হলেও ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।'
তিনি অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে বলেন, 'শিক্ষার্থীরা যখন আনন্দের সঙ্গে শিখতে শুরু করবে, তখন শিক্ষাব্যবস্থার এই পরিবর্তন সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যেই বিচ্যুতিমুক্ত ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক বিতরণের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ করছে এনসিটিবি।'