ইউএইর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জোট ছাড়ার পর দেশটি নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ জোরদার করবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে একটি নির্ভরযোগ্য ও দায়িত্বশীল সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে আমিরাত।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, আরব উপসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ের হামলার শঙ্কা ও নিরাপত্তা উদ্বেগে সরবরাহব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএইর এই পদক্ষেপ ওপেক জোটের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে জোটের প্রধান প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ওপেক বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত তেলের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সরবরাহ করে থাকে। ইউএইর সম্ভাব্য প্রস্থান জোটের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।