প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি। এমনকি এখন পর্যন্ত তার কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তাও প্রকাশ করা হয়নি। তার পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা কেবল লিখিত আকারে—সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করে জানানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রগুলোর বরাতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে তিনি সর্বোচ্চ গোপনীয়তার মধ্যে অবস্থান করছেন। এমনকি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ডার বা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির বদলে ব্যবহৃত হচ্ছে পুরনো ও বিচ্ছিন্ন পদ্ধতি। হাতে লেখা বার্তা সিলগালা করে বিশ্বস্ত বাহকের মাধ্যমে গোপন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে—যাতে কোনোভাবেই অবস্থান ট্র্যাক করা না যায়।
এছাড়া নিউইয়র্ক টাইমস-এর ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পূর্ববর্তী এক হামলার ঘটনায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। মুখে আঘাত, ঠোঁটে ক্ষতি এবং পায়ে একাধিক অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এসব তথ্যের কোনো স্বাধীন বা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তার চিকিৎসা অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যে চলছে এবং একটি বিশেষ চিকিৎসক দল সার্বক্ষণিকভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ করছে।
তবে এসব দাবির বিষয়ে ভিন্ন অবস্থানও রয়েছে। মোজতবা খামেনির নামযুক্ত এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এসব তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, দেশটির জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করতেই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছে, ইরানের ক্ষমতা কাঠামো ঘিরে এমন অনিশ্চিত তথ্য যাচাই না করে গ্রহণ করা উচিত নয় এবং বিষয়টি নিয়ে আরও স্বচ্ছ ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।