মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জমা পড়া অভিযোগ, আবেদন ও আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই যাচাই কার্যক্রম চলছে। সরকারি সূত্র বলছে, জামুকার পুনর্গঠনের পর গত এক বছরে অনুষ্ঠিত ১১টি সভায় মোট ২৮ জনকে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে কেউ আগের তালিকায় ছিলেন না।
শুনানি ও প্রমাণ যাচাইয়ে দেখা গেছে, ৮৪ জন যথাযথ প্রমাণের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, ৬৪৩ জনের আবেদন বাতিল হয়েছে। এছাড়া ৩৩৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কারণ তারা পর্যাপ্ত প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
গত ৩ জুন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, সরাসরি যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণকারীই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। দেশ বা দেশের বাইরে কূটনৈতিক, সাংগঠনিক বা জনমত গঠনের কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, 'নতুন শ্রেণিবিন্যাস শুরু হলে সারা দেশে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য আপাতত কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। দায়িত্বটি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।'
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ১০১তম সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পৃথক গেজেট প্রকাশ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক ভূমিকা রাখা সাংবাদিক, ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের আলাদা গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধ ছিল বহুমাত্রিক সংগ্রাম। অস্ত্র হাতে লড়েছেন কেউ, কূটনীতি করেছেন কেউ, কেউ সংগঠন বা সেবার মাধ্যমে ভূমিকা রেখেছেন। সবকিছু একভাবে উপস্থাপন করা হলে যুদ্ধের বৈচিত্র্য স্পষ্ট হয় না।'
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি পদে নিয়োগ পাওয়া ৯০ হাজার ৫২৭ জনের মধ্যে ৭২ হাজার ৭৭ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।