বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সচিবালয় প্রাঙ্গণে বাড়তি তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস; অনেককে ফুলের তোড়া হাতে সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।
নিরাপত্তা জোরদার করতে সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যরা সচিবালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর চলাচল ও কর্মসূচিকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কক্ষ মঙ্গলবার বিকেলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তরে নামফলক স্থাপন এবং কক্ষগুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।
সচিবালয়ে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রী প্রথম কর্মদিবসে অফিস করতে আসছেন—এটি তাদের জন্য আনন্দের বিষয়। তারা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে।
এদিকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের মন্ত্রী দিনের কর্মসূচির শুরুতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর সচিবালয়ে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে ফিরে তিনি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অফিস করবেন।
প্রথম দিনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি। দুপুরে সচিবালয়ে মধ্যাহ্নভোজের পর বিকাল ৩টায় মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। পরে বিকাল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা করার কথা রয়েছে।
এছাড়া নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও আজ নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। তারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভা করবেন এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে মন্ত্রিসভার সদস্যরা সাংবাদিকদের ব্রিফিং করবেন বলে জানা গেছে।