যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নিজের মৃত্যু নিয়ে দেওয়া এক মন্তব্যে ঘনিষ্ঠ মহল ও মিত্রদের মধ্যে বিস্ময় ও অস্বস্তি সৃষ্টি করেছেন। নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে এক ঘনিষ্ঠ আড্ডায় শান্ত স্বরে ধারণা দেন যে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন টেলিভিশনের পর্দায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের কফিন ক্যাপিটল হিলে প্রদর্শনের দৃশ্য চলছিল। তখন কক্ষে উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘জানো তো, দশ বছরের মধ্যেই সেটা আমি হব।’
এই মন্তব্যে উপস্থিত অনেকেই হতবাক হয়ে যান বলে জানিয়েছেন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি। তাঁর মতে, ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের আবারও প্রার্থী হওয়ার আলোচনা চলার মধ্যেই এই মন্তব্য আলোচনায় এক ধরনের মৃত্যুচিন্তার ছায়া ফেলেছে। নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ২০২৮ সালের নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় মাঝেমধ্যেই ট্রাম্পের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠে আসে, বিশেষ করে তিনি আদৌ আরেকটি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন কি না বা আগ্রহী থাকবেন কি না, তা নিয়ে।
তবে এসব উদ্বেগের মধ্যেও ট্রাম্প নিজে দাবি করে আসছেন, ক্ষমতায় থাকাই তাঁকে জীবিত ও সক্রিয় রাখে। বয়স বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উপেক্ষা করে তিনি বারবার তৃতীয় এমনকি কার্যত চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই।
এদিকে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর হাতে কালচে দাগ দেখা যাওয়া, প্রকাশ্যে ঘন ঘন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়া এবং ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে এক রহস্যজনক এমআরআই পরীক্ষার বিষয়ে হোয়াইট হাউসকে ব্যাখ্যা দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। সাবেক হোয়াইট হাউস আইনজীবী টাই কব বলেছেন, ট্রাম্পের মানসিক অবস্থার অবনতি এখন স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। পাশাপাশি এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রতিদিন যে মাত্রার অ্যাসপিরিন গ্রহণ করেন, তা সাধারণত স্ট্রোক রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে এক ধরনের দ্বৈত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। একদিকে তিনি মৃত্যু, উত্তরাধিকার ও স্মৃতি নিয়ে কথা বলছেন, অন্যদিকে নিজেকে এমন এক শক্তিশালী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যিনি সময় ও বয়স—দুটোকেই অতিক্রম করতে সক্ষম।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও হোয়াইট হাউস এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।