বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলা সাহিত্যের মহোত্তম কণ্ঠস্বর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যুক্তিবোধ ও মানবকল্যাণের চিন্তা থেকেই রবীন্দ্রনাথ আন্তর্জাতিকতার বাণী বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার সাহিত্য ও দর্শন আজও বাংলা ভাষাভাষী মানুষের চিন্তা ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ হয়ে আছে।'
জাতীয় জীবনে বিশ্বকবির অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, 'মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রবীন্দ্রনাথের গান বাঙালির প্রেরণার বিশেষ উৎস হয়ে উঠেছিল। শাশ্বত বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ও জীবনচিত্র বিশ্বস্ততার সঙ্গে উঠে এসেছে রবীন্দ্রসাহিত্যে। সাধারণ মানুষের কথা বলার মধ্য দিয়েই রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।'
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'রবীন্দ্রনাথের অনবদ্য সৃষ্টি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে তিনি বিশ্বসাহিত্যে প্রথম এশীয় হিসেবে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি লাভ করেন।'
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ-সংঘাত, উগ্রবাদ ও জাতিগত সহিংসতার প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বহুত্ববাদ, অহিংসা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে কবি বিশ্ববাসীর কাছে বাংলার মরমি চেতনাকে পৌঁছে দিয়েছেন।'
শিক্ষা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় আলোকিত করতে তিনি শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপরও তিনি সমান গুরুত্বারোপ করেন।'
সবশেষে রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।