চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠে নামলেই নতুন ইতিহাস গড়ছেন লিওনেল মেসি। দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, অসাধারণ ফিটনেস ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তিনি এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁর প্রতিটি ম্যাচই নতুন কোনো রেকর্ডের জন্ম দিচ্ছে।
৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে। তবে মেসির অর্জনের মূল্য কেবল ম্যাচসংখ্যায় নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে ধরে রাখার মধ্যেই নিহিত। এ কারণেই তাঁর প্রতিটি উপস্থিতি এখন ফুটবল ইতিহাসের নতুন অধ্যায় হয়ে উঠছে।
২০০৬ থেকে ২০২৬ টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রথম পুরুষ ফুটবলার এখন মেসি। শুধু অংশগ্রহণ নয়, মাঠে তাঁর প্রভাবও আগের মতোই কার্যকর। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েন।
এরপর শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে একটি গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২০-এ উন্নীত করেন। এর মাধ্যমে তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ওঠেন। একই ম্যাচ ছিল বিশ্বকাপে তাঁর ৩০তম উপস্থিতি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার নতুন রেকর্ড।
গোল করার ধারাবাহিকতাতেও নতুন নজির গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা আটটি ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েন।
শুধু গোল নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করেছেন মেসি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার আটটি অ্যাসিস্টের রেকর্ড ছাড়িয়ে নিজের অ্যাসিস্টসংখ্যা নয়টিতে উন্নীত করেন।
কাতার বিশ্বকাপে সাত গোল করার পর চলতি আসরেও ইতোমধ্যে সাত গোল করেছেন মেসি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন আসরে সাত বা তার বেশি গোল করার অনন্য কীর্তিও তাঁর দখলে গেছে।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে একের পর এক রেকর্ড গড়ে লিওনেল মেসি এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন, যেখানে মাঠে তাঁর প্রতিটি উপস্থিতিই ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করছে।