ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি এই পোস্ট দেন।
পোস্টে ডা. মাহমুদা মিতু জানান, হাদি বর্তমানে ‘অ্যাসিস্টেড ভেন্টিলেশনে’ আছেন। অর্থাৎ তিনি নিজে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছেন, আর সেই শ্বাসকে মেশিন সাপোর্ট দিচ্ছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি লেখেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর হাদির কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল এবং সিপিআর দেওয়ার পরও তখন নিয়মিত পালস পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে নিউরোসার্জারি, ইএনটি ও থোরাসিকসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক দল একযোগে অস্ত্রোপচারে অংশ নেন। অস্ত্রোপচারের সময় মাথার এক পাশের হাড় খুলে ডিকম্প্রেশন করার পর হাদি প্রথমবারের মতো স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্বাস নেওয়া শুরু করেন বলে জানান তিনি।
এরপর প্রোটোকল মেনে হাদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরের সময়ের অনুভূতি বর্ণনা করে ডা. মাহমুদা মিতু লেখেন, ওই মুহূর্তের মানসিক অবস্থা কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়। রাস্তা ফাঁকা করে অ্যাম্বুল্যান্স চলার সময় মানুষের ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে তার পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে হাদির প্রতি মানুষের ভালোবাসার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ভিআইপিদের জন্য রাস্তা খালি করা হলে মানুষ বিরক্ত হলেও, হাদির জন্য হাজারো মানুষ হাসিমুখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকতে রাজি। তিনি বলেন, “তুই এমপি-মন্ত্রীর চেয়েও অনেক বড়।”
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে ডা. মাহমুদা মিতু লেখেন, সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ, ছোট ছোট না বলা কথা এবং হাদির প্রতি মানুষের ভালোবাসার নানা ঘটনা এখন তাকে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে। পোস্টের শেষভাগে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশের লাল পতাকার মাঝখান দিয়ে একটা গুলি চলে গেল।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে নির্বাচনি প্রচারণাকালে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।