বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েও সহজ লক্ষ্য তাড়ায় শেষ পর্যন্ত ঘাম ঝরাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে শেষ ওভারের রোমাঞ্চ পেরিয়ে ৪ উইকেট ও ২ বল হাতে রেখে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে টি–টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে সফরকারীরা।
বুলাওয়েতে ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসান ব্যক্তিগত ৪ রানে ফিরে যান। এরপর পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন তানজিদ হাসান তামিম। পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারালেও মাত্র ৩০ রান তোলে দল।
পরে রান তোলার গতি বাড়ালেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ইমন। ২৪ রান করে আউট হওয়ার আগে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়েন তামিম। হৃদয়ও ২৪ রান করে ফিরে যান। এর আগেই চলতি সফরে নিজের চতুর্থ অর্ধশতক পূর্ণ করেন তামিম।
ইয়াসির আলী রাব্বি ১০ রান করে বিদায় নিলে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ে। শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫ রান। প্রথম বলে এক রান নেন তামিম। পরের দুই বলে মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আউট হলে ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত শেখ মেহেদী হাসান চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তামিম ৫৮ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শেখ মেহেদী হাসান ওপেনার টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে ৪ রানে ফিরিয়ে দেন।
এরপর ডিওন মায়ার্স ও বেনেট দ্বিতীয় উইকেটে ৭১ রানের জুটি গড়েন। বেনেট ৪৭ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের শিকার হন। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার সঙ্গে ৩০ রানের জুটি গড়ার পথে অর্ধশতক পূর্ণ করেন মায়ার্স। তবে রাজা ৩ রান করে রিশাদ হোসেনের বলে আউট হন। রায়ান বার্ল ৭ রান করে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের শিকার হন। ব্র্যান্ড ইভান্স রান আউট হলে বড় সংগ্রহের আশা ফিকে হয়ে যায় স্বাগতিকদের।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ডিওন মায়ার্স ৫৩ বলে ৭৩ রানের দারুণ ইনিংস খেললেও জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানের বেশি তুলতে পারেনি।
বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। এছাড়া শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন একটি করে উইকেট শিকার করেন।