ম্যাগাজিনটির ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের অতীতের কট্টর অবস্থান থেকে সরে এসে বর্তমানে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সরকার হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার ও সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করাই হবে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে জানান, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ক কেবল একটি নির্বাচনী সমঝোতা; এর সঙ্গে কোনো আদর্শিক একীভূতকরণ জড়িত নয়। এনসিপির অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম হলে এই জোট ভাঙতেও তারা দ্বিধা করবেন না বলে জানান তিনি।
জোট গঠনের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত না হলেও নির্বাচনী সহযোগিতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে এসব বিষয় এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রতিফলিত হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি জোটগতভাবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
নাহিদ ইসলামের মতে, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে সংসদে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এই সমঝোতা জরুরি হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, শুরুতে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করলেও ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আদর্শিক একাকিত্বের চেয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এনসিপি।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, পুরোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো আবারও সংগঠিত হয়ে সংস্কার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি কড়া অবস্থান তুলে ধরেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ভারতকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের নীতি থেকে সরে আসতে হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান দাবি হবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সহযোগিতা না এলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম মনে করেন, অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতার পর দেশের মানুষ এখন তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখছে। সংসদের মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে নিয়ে আসাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
সূত্র: দ্য উইক