জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সাভার এলাকার গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সাভার অঞ্চলের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
১৮ ও ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জন্য প্রয়োজনীয় ও খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে অবহিত করা, সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনসংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা এবং সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া। একই সঙ্গে নির্বাচনী আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান এবং নির্বাচন প্রতিবেদন তৈরিতে নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব তুলে ধরা।
পিআইবির সহকারী সম্পাদক শায়লা আক্তার বলেন, এটি পিআইবির সরকারি প্রচারণার একটি অংশ। নির্বাচন সন্নিকটে থাকায় সাংবাদিকদের সহায়তা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্টিংয়ের আগে ও পরে সাংবাদিকরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হন, সেসব সমস্যা তারা কীভাবে মোকাবিলা করতে পারেন—তা দেখাই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিআইবি চায় সাংবাদিকরা যেন সঠিক ও যাচাই করা তথ্য প্রচার করেন, যাতে কোনো তথ্য গুজবে রূপ না নেয়। সেই লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা কতটা শিক্ষার্থী আর কতটা সাংবাদিক—তা আলাদা করে চিহ্নিত করা সত্যিই কঠিন। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের সময় যখন আন্দোলন নানা ভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, তখন এই বিশ্ববিদ্যালয় আবার নতুন করে আন্দোলনের প্রেরণায় সামনে আসে। সেই সময় সাংবাদিকরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, অনেকের শরীরে এখনো স্প্লিন্টারের ক্ষত রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, যেসব কর্মউদ্যমী সাংবাদিকদের নিয়ে এই কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে, তাদের তুলনা করার মতো উদাহরণ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সামান্য প্রশিক্ষণ, সামান্য প্ররোচনা ও আগ্রহ সৃষ্টি করা গেলে এই তারুণ্য ও অদম্য শক্তি যদি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ সাংবাদিকদের মধ্যে সঞ্চারিত করা যায়, তবে এই অঞ্চলের প্রকৃত তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।