নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের সাদা’ত আবাত এলাকার ৬০ বছর বয়সী এক নারী জানান, তিনি নিজেও দ্বিতীয় রাতের মতো রাস্তায় নেমেছিলেন এবং নিজের চোখে মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা দেখেছেন। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার রাতেও এই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে মাসহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইস্ফাহান, কারাজ ও ইয়াজদসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিবিসি ফার্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন এবং শাহ আমলের রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পক্ষে শ্লোগান তুলছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে অভিভাবকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, তারা যেন তাদের সন্তানদের রাস্তায় যেতে না দেন। একই সঙ্গে জানানো হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটলে তার দায় প্রশাসন নেবে না। কড়া এই হুঁশিয়ারি ও দেশজুড়ে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার পরও হাজার হাজার মানুষ রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন।
তেহরানের এক প্রকৌশলী আমির রেজা জানান, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করছে। এক পর্যায়ে সিভিল পোশাকে থাকা মিলিশিয়া ও পুলিশ সদস্যরা সরাসরি গুলি চালালে জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই বিক্ষোভের সূচনা হলেও তা দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শুধু গত বৃহস্পতিবারেই তেহরানে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন। টানা ১৩ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে, ইরান সরকার এই সহিংসতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের প্ররোচণাতেই একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রক্তাক্ত সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও আন্তর্জাতিক চাপ—এই দুইয়ের মুখে পড়ে ইরান সরকার এখন চরম সংকটে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।