আরব উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের মধ্য দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছে। সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়লেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে আঞ্চলিক শক্তিগুলো। এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহে তেহরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য ইরানের সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় হামলার আগে ভূমধ্যসাগরে যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ শক্তি মোতায়েন করেছিল, তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী নৌবহর বর্তমানে ইরানের চারপাশে অবস্থান করছে।
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে তেহরানও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার পাল্টা জবাব দিতে তাদের সেনাবাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হামলার তাত্ক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।
গত বছর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে টানা ১২ দিনের যুদ্ধের এক পর্যায়ে তেহরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই ঘটনার সাত মাস না যেতেই আবারও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতির আভাস মিলছে। তবে এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
ইতিমধ্যে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের সংঘাতে ইরান ইসরাইলের একাধিক শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।