শনিবার (২১ মার্চ) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের চলমান প্রতিশোধমূলক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ এর ৭০তম ধাপে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ পর্যায়ে অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন ৫৫টিরও বেশি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার শুরুতেই লক্ষ্যবস্তু এলাকাগুলোতে তীব্র বিস্ফোরণ, আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে পরিচালিত এই হামলাকে মুসলিম বিশ্বের জন্য ‘নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতার সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে আইআরজিসি।
আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, এই ধাপে সৌদি আরবের আল-খারজ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা, কুয়েতের আলী আল-সালেম, ইরাকি কুর্দিস্তানের ইরবিল এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ অন্তত পাঁচটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। হামলায় ‘কিয়াম’ ও ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ইসরাইলের হাইফা বন্দর ও তেল আবিবসহ বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় হামলা চালানোর দাবি করে আইআরজিসি। এসব হামলায় ‘খোররামশাহ-৪’ এবং বহুমুখী ওয়ারহেডসমৃদ্ধ ‘কদর’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এতে শত্রুপক্ষের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে আরও কঠোর ও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে সংঘাতের পরবর্তী ধাপ মোকাবিলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের হামলার পরপরই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ শুরু হয়। এরপর থেকে কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, সৌদি আরব ও জর্ডানজুড়ে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ ইসরাইলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সূত্র: প্রেস টিভি