বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে কমে প্রায় ১০৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে সোমবারজুড়ে দোলাচলে ছিল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ইরান। এরপর প্রণালি দিয়ে জ্বালানিসহ সকল জাহাজ পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত বাড়তে থাকে তেলের দাম।
সোমবার (১৮ মে) দিনের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে দেশটির জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। তার এমন মন্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যায়।
তবে পরে পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করে, আলোচনার অগ্রগতির স্বার্থে ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এরপর ট্রাম্প জানান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতির সামনে নতুন সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানির বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাত।