ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করার আগের রাতেই হত্যাচেষ্টার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শুটার ফয়সাল। সাভারের একটি রিসোর্টে অবস্থানকালে তিনি তার কথিত বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাকে জানান, পরদিন এমন একটি ঘটনা ঘটবে, যা ‘সারা দেশ কাঁপাবে’। পরদিনই রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে হাদির ওপর গুলি চালানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার পেছনে মোহাম্মদপুরের এক সাবেক কাউন্সিলর মাস্টারমাইন্ড হিসেবে জড়িত রয়েছেন। অন্তত ২০ জনের একটি সংগঠিত গ্রুপ হত্যাচেষ্টা, অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ, পালিয়ে যাওয়া ও সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করেছে বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।
র্যাব ও পুলিশের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৯ জন গ্রেফতার হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি ও কয়েক কোটি টাকার চেক। রিমান্ডে পাওয়া তথ্যে আরও শুটার গ্রুপ সক্রিয় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গোয়েন্দারা।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার আগের রাতে ফয়সাল ও আলমগীর সাভারের গ্রিন জোন রিসোর্টে অবস্থান করেন। সকালে তারা ঢাকায় ফিরে হামলা চালান। ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট ছিল ভুয়া। ঘটনার পর ফয়সাল আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায় যান, সেখানে নম্বর প্লেট বদল ও পালানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এ ঘটনায় ডিএমপির পল্টন থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি।
ডিবি সূত্র জানায়, ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য মিলেছে। জড়িতদের ভূমিকা ও পেছনের অর্থায়নকারীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বেলা ২টা ২০ মিনিটে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে।