বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। মামলার সূচনা বক্তব্য প্রদান ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হলেন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
সব আসামি বর্তমানে পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনাল তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া, রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে, যারা আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাবেন।
শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগে উল্লেখ করেন, ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ ও উসকানি প্রদানে এই সাতজনের সরাসরি ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাঠ করা হয়।
অভিযোগপত্র ১৮ ডিসেম্বর দাখিলের পর দীর্ঘ শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা দাবি করেন, অভিযোগগুলোর সঙ্গে তাদের মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে ট্রাইব্যুনাল অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিচার প্রক্রিয়া জুলাই শহীদদের পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।