জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি কোনো আদর্শিক ঐক্য নয়, বরং একটি নির্বাচনী সমঝোতা।
রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এর আগে বিকেলে জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনসিপি তাদের সঙ্গে ১০–দলীয় নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হচ্ছে।
এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী সারা দেশ থেকে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়ন আহ্বান করা হয়। পরে এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে তিন দলের গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গড়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতবরণ এবং তাঁকে প্রকাশ্যে গুলি করার ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী আগ্রাসনী শক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং তারা নির্বাচন বানচাল, সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণ, নাগরিক, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারাই এসব চক্রান্তের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করার জন্য এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী অগ্রযাত্রা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে এনসিপি। নাহিদ ইসলাম জানান, এই বাস্তবতা থেকেই জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা আট দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনী সমঝোতায় সম্মত হয়েছে এনসিপি এবং যৌথভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সমঝোতা ন্যূনতম কিছু বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়েছে। কোনো সামগ্রিক বা আদর্শিক ঐক্য হয়নি। এটি নির্বাচনী সময় পার করার একটি সমঝোতা, যার পাশাপাশি সংস্কার, বিচার এবং আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী ন্যূনতম কর্মসূচিও থাকবে।
নাহিদ ইসলাম জানান, সোমবার দলীয় প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। সমঝোতার আওতায় যাঁরা প্রার্থী হবেন, তাঁরাই মনোনয়নপত্র জমা দেবেন এবং সারা দেশে একযোগে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহত্তর ঐক্য করা হয়েছে শুধুমাত্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এনসিপি তার লক্ষ্য ও আদর্শ অনুযায়ীই রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
দুই নারীনেত্রীর পদত্যাগে দলে ভাঙনের ইঙ্গিত রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, দলের নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতেই জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ দলে থাকবেন কি না বা নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সেটি তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
অপর এক প্রশ্নে তিনি জানান, এনসিপি নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেবে এবং জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ, মাহমুদা মিতু ও দিলশানা পারুলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।