সৌদি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দেশের ডি ফ্যাক্টো নেতা ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই অভিযান সংক্ষিপ্ত না করার জন্য অনুরোধ করেছেন। যুবরাজ এই মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে পরিবর্তন আনার ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ কেবল অভিযানের তীব্রতা বাড়ানোর পক্ষেই নয়, প্রয়োজনে সরাসরি অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও নিচ্ছে। তবে চার সপ্তাহের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের খবর পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের নেতৃত্বে চলা শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে নেমে যেতে পারে।
সৌদি ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলহামেদ বলেন, “সৌদি আরব আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যদি ইরান সমঝোতার শর্ত অগ্রাহ্য করে হামলা অব্যাহত রাখে, আমরা চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান যুদ্ধে তেহরানের পাল্টা আঘাতের অংশ হিসেবে সৌদি স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর উপকূলে ইয়ানবুতে একটি তেল শোধনাগারে হামলার মাধ্যমে ইরান সৌদি আরবের বিকল্প অর্থনৈতিক করিডোরকেও হুমকির মুখে ফেলে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যদি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সরাসরি ইরানের পক্ষে যুক্ত হয়, তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ঝুঁকি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে সুন্নি ও শিয়া বিশ্বের নেতৃত্ব নিয়ে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিদ্যমান।
সৌদি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ হিশাম আলঘান্নাম বলেন, “সৌদি আরব এখনও সতর্ক নিরপেক্ষতা বজায় রাখছে। তবে হুথিরা বড় ধরনের হামলা করলে রিয়াদ রক্ষণাত্মক জোটের সমর্থনে সরাসরি যুদ্ধে নেমে পড়তে পারে।”
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান