বিরিয়ানির বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বিবেক কেনা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে সত্যিই আমি লজ্জিত ও ব্যথিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।
শনিবার (৬ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ঢাবি শিক্ষার্থীর বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি এ পোস্ট করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “শিবির যেভাবে নবীনবরণে খাওয়াচ্ছে, আগামীর ডাকসু শিবিরের!” ঠিক এভাবেই বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী। আরও যারা বক্তব্য দিয়েছে, তারা প্রায় একই ধরনের কথা বলেছে। তার মানে বিরিয়ানির বিনিময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বিবেক কেনা যাচ্ছে। সত্যিই অবাক হয়েছি। আমাদের সময়ও এত থার্ড ক্লাস মনুষ্যত্ব শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখিনি। মনুষ্যত্ব এখন টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
“ঠিক গত ডাকসু নির্বাচনেও ওয়েলফেয়ার মেকানিজমের নামে টাকা বিতরণ করে ও বিরিয়ানি খাইয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বিবেক কিনেছে শিবির। এজন্যই ডাকসুর অতীত ঐতিহ্য ও গুরুত্ব আর নেই। যেভাবে বিবেক লোপ পেয়েছে, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যতদিন না উন্নত রাষ্ট্র হবে, সামান্য টাকা ও বিরিয়ানি খাইয়ে শিক্ষার্থীদের বিবেক কেনাবেচাও বন্ধ হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে সত্যিই আমি লজ্জিত ও ব্যথিত। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় মাহমুদুর রহমান মান্না ভাইয়ের বক্তব্য শোনার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম ছেড়ে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আর এখন অপেক্ষা করছে কোন সংগঠন নবীনবরণে সামান্য কিছু জিনিস উপহার দেবে আর বিরিয়ানি খাওয়াবে! লজ্জা! লজ্জা! লজ্জা!”
রাশেদ আরও বলেন, “আর এসব কারণেই ববি হাজ্জাজ ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টার বললেও খুব বেশি প্রতিবাদ হয়নি। আমি নিজেও প্রতিবাদ করার সাহস করতে পারিনি। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে একটি গোষ্ঠীর কারণে। এখানে আজকাল মনুষ্যত্ব চর্চার চেয়ে মনুষ্যত্ব বিক্রি বেশি হয়। এর হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার জন্য মনুষ্যত্বসম্পন্ন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় হতে হবে। শিবির কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফোকাস কোচিং সেন্টার বানানোর অপচেষ্টা এবং নষ্ট ও বিবেক কেনার রাজনীতি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে হবে।”