বিটিআরসি জানায়, দেশের ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনায় চলতি বছরের নভেম্বর থেকে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করা শুরু হয়। এর প্রভাব পড়েছে মোবাইল ব্যবহারকারী ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে।
মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, 'আমাদের নির্দেশনা ছিল গ্রাহকপ্রতি ১০টি সিমে নামিয়ে আনা। এতে প্রায় ৮৯ লাখ অতিরিক্ত সিম চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮ লাখের বেশি বন্ধ করা হয়েছে। বাকি এক লাখ মামলার কারণে স্থগিত রয়েছে, তবে দ্রুত বন্ধ করা হবে।'
তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয় সিম সংখ্যা পাঁচটিতে নামানোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কারণে তা এখন করা হচ্ছে না। নির্বাচনের পর ধাপে ধাপে সিম সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।
সিম কমানোর প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু ও সিম বন্ধের ফলে গত ছয় মাসে প্রায় ১৮ লাখ মোবাইল গ্রাহক এবং ৬২.৬ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ সালে দেশে চারটি মোবাইল অপারেটরের ১৯ কোটি ৪২ লাখ ব্যবহারকারী ছিল। এক বছর পর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৮৭ লাখে এবং বর্তমানে (নভেম্বর ২০২৫) ১৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে এসেছে। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ৭৫ লাখ থেকে কমে বর্তমানে ১১ কোটি ৫২ লাখে। তবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৪৬ লাখে পৌঁছেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিম কমানো, মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্রডব্যান্ডের সহজলভ্যতার কারণে মোবাইল ব্যবহারকারী ও ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা কমছে।
বিটিআরসির মনিরুজ্জামান বলেন, '১০টি সিমে নামানোতে বেশি প্রভাব পড়বে না, তবে পাঁচটিতে নামালে বাজার ও রাজস্ব খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।'