ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা হওয়া ১৪টি আসনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রার্থীসহ মোট ৫৯ জনের নির্বাচনী জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশই প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন জানান, গণ প্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪১ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে অনুযায়ী চট্টগ্রামের বেশিরভাগ আসনেই একাধিক প্রার্থীর জামানত বাতিল হচ্ছে এবং এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১১৫ জন। এর মধ্যে ১৪টি আসনে ৯৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শুক্রবার এসব আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করা হলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড) আসনের ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। এই দুই আসনে মোট ১৭ জন প্রার্থী ছিলেন।
ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ আসনেই বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া বাকি প্রার্থীরা ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন। কোথাও কোথাও জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী ফ্রন্ট, এলডিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও এই তালিকায় রয়েছেন।
কিছু আসনে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হলেও প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় অনেকেই এক অষ্টমাংশ ভোটের শর্ত পূরণ করতে পারেননি। ফলে চট্টগ্রামের ১৪টি ঘোষিত আসনে মোট ৫৯ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।