চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের এক শিক্ষককে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে প্রকাশ্যে হেনস্তা, টেলিফোনে জেরা, অফিসে অবরুদ্ধ করা এবং ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান, শারীরিকভাবে হেনস্তা কিংবা ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। মতভেদ বা বিতর্ক থাকলেও তা নিরসনের একমাত্র পথ আইন, প্রশাসনিক তদন্ত ও ন্যায্য প্রক্রিয়া; কোনোভাবেই ‘মব জাস্টিস’ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয় লাভের পর থেকে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক, ‘সব কালচার’ এবং শিক্ষক নিপীড়নের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা ও গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরতে পারবে না।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে দৃশ্যমান নিরাপত্তা ও নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তোলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চেতনা, অধিকার ও সুস্থ আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে আন্দোলনের নামে ক্ষমতার দম্ভে কাউকে অপমান বা হেনস্তা করা গণতন্ত্র নয়, বরং নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণ।
সবশেষে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মর্যাদাবোধ, সহনশীলতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানায়।