শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

চলতি বছরই দেশে ফিরবে শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সব ধরনের বাধা, ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। তার ভাষায়, দেশে ফেরা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; বরং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে এটি সম্পৃক্ত। ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ই-মেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রায় দুই বছর ধরে দেশছাড়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। তবে তিনি বলেন, এসব তাকে ভীত করতে পারেনি।

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সব ধরনের বাধা, ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। তার ভাষায়, দেশে ফেরা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; বরং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে এটি সম্পৃক্ত।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া ই-মেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।


প্রায় দুই বছর ধরে দেশছাড়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। তবে তিনি বলেন, এসব তাকে ভীত করতে পারেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন না। তার রাজনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুকে তিনি ভয় পান না। ১৯৭৫ সালে তিনি বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হারিয়েছেন। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। অসংখ্য ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হলেও প্রতিবারই তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাই সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে চলতি বছরই দেশে ফিরবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার মাটি, মানুষ, ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি রাজনৈতিক দল।

তার দাবি, ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বহুবার হামলা, রক্তপাত ও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হলেও প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন অন্য কোনো দলের দুর্বলতার ওপর নির্ভর করে না; জনগণের সমর্থনই দলটির প্রধান শক্তি।

শেখ হাসিনার অভিযোগ, বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। তবে মানুষের হৃদয় থেকে দলটিকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।

দলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং অসংখ্য মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে জনগণের সমর্থনের ওপর। তার দাবি, দলীয় কার্যালয় বন্ধ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত কিংবা নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হলেও মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে সরানো যায়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও এলাকায় প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাতে অংশ নিচ্ছেন। এটিকে তিনি দলের পুনর্জাগরণের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তার মতে, সেই ভিত্তিকে দুর্বল করা মানে বাংলাদেশের পরিচয়ের ওপর আঘাত হানা।

তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ভাঙচুর, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, মন্দির, সুফি দরগাহ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে গোপন যোগাযোগের গুঞ্জন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এটি জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো প্রচারণা। তার ভাষায়, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচার কোনো গোপন সমঝোতার বিষয় নয়; এগুলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। জনগণের সমর্থন ও সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতেই দলটি রাজনীতি করবে।

ভারতে অবস্থান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বহুদিন ধরেই তার ব্যক্তিগত জীবন বলতে কিছু নেই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও তার হৃদয় বাংলাদেশেই পড়ে আছে। কারণ এখানেই তার বাবার সমাধি, পরিবারের সদস্যদের রক্তের স্মৃতি এবং দেশের মানুষের সঙ্গে তার জীবনের বন্ধন জড়িয়ে আছে।

তিনি জানান, দেশ থেকে দূরে থাকলেও প্রতিদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, দলের নেতাকর্মীদের খোঁজ রাখেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং জাতির পিতার আদর্শই তার শক্তির উৎস। সেই শক্তি নিয়েই তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিশ্বাস, জনগণ আবারও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে এবং আওয়ামী লীগও জনগণের শক্তিতেই পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

শিরোনাম:
সদ্য. রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সদ্য. লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের সদ্য. মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা: আইনমন্ত্রী সদ্য. এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে সিলেটে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন সদ্য. আত্মসমর্পণের আগেই গ্রেপ্তার হতে পারেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী সদ্য. মৌলভীবাজার থেকে সিলেটের পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সদ্য. মিরপুর কলেজের দেয়াল ধস: টিসিবির নামে ভুল সংবাদ প্রকাশ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সদ্য. সাকিব আল হাসানকে টপকে এখন শীর্ষে পরীমনি সদ্য. ছাত্রলীগকে গুপ্ত থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে বললেন প্রক্টর সদ্য. রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সদ্য. লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের সদ্য. মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা: আইনমন্ত্রী সদ্য. এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে সিলেটে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন সদ্য. আত্মসমর্পণের আগেই গ্রেপ্তার হতে পারেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী সদ্য. মৌলভীবাজার থেকে সিলেটের পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সদ্য. মিরপুর কলেজের দেয়াল ধস: টিসিবির নামে ভুল সংবাদ প্রকাশ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সদ্য. সাকিব আল হাসানকে টপকে এখন শীর্ষে পরীমনি সদ্য. ছাত্রলীগকে গুপ্ত থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে বললেন প্রক্টর